কমরেড জিতেন সেনের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ২:২০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২৫

কমরেড জিতেন সেনের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual7 Ad Code
আজীবন সংগ্রামী সাংবাদিক ও বাম রাজনীতিককে স্মরণে সিলেট-হবিগঞ্জজুড়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট, ০৭ নভেম্বর ২০২৫ : আজ (৭ নভেম্বর ২০২৫) প্রগতিশীল রাজনীতি ও সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র কমরেড জিতেন সেনের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী।

২০০৫ সালের এই দিনে (৭ নভেম্বর) তিনি পরলোকগমন করেন। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশ হারিয়েছিল এক সৎ, নির্ভীক ও আদর্শনিষ্ঠ সাংবাদিক এবং এক আজীবন সংগ্রামী বাম রাজনীতিককে।

শৈশব ও শিক্ষা

কমরেড জিতেন সেন ১৯৫২ সালের ১৬ জানুয়ারি হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত ও সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই সমাজ সচেতনতা, সংস্কৃতি চর্চা ও মুক্ত চিন্তার আদর্শে বড় হয়ে ওঠেন তিনি।

রাজনীতির মাঠে সূচনা

মাত্র ১৫ বছর বয়সে, ১৯৬৭ সালে, ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে। তৎকালীন সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতে তিনি ছিলেন অগ্রণী কণ্ঠ। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন—যুবক বয়সেই মেহনতি মানুষের মুক্তির পক্ষে নিজেকে নিবেদিত করেন।

সাংবাদিকতার পরিসরে

Manual3 Ad Code

রাজনৈতিক আদর্শের পাশাপাশি তিনি ১৯৬৯ সালেই সাংবাদিকতার পেশায় যুক্ত হন। দীর্ঘ ৩৬ বছরের কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার জন্য তিনি অগণিত পাঠকের আস্থা অর্জন করেন।
তিনি কর্মরত ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক পত্রিকায়—দৈনিক আওয়াজ, দৈনিক জনকণ্ঠ, ভোরের কাগজ, আজকের কাগজ, সিলেটের অধুনালুপ্ত দৈনিক জালালাবাদী, দৈনিক মানচিত্র, সাপ্তাহিক সমাচার প্রভৃতি পত্রিকায়।
সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন, শ্রমজীবী সাংবাদিকদের অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় তিনি ছিলেন অগ্রণী। হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি দুইবার সিলেট প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
এছাড়া তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা, সিলেট সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, এবং সিলেট রিপোর্টার্স ইউনিটের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বাম রাজনীতিতে আজীবন ব্রতী

Manual7 Ad Code

সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাম রাজনীতিতেও ছিলেন তিনি সমানভাবে সক্রিয়। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সিলেট জেলা কমিটির সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
ভূমিহীন ক্ষেতমজুর আন্দোলন, কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন এবং সিলেট বিভাগ আন্দোলনসহ দেশের প্রায় সব প্রগতিশীল আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল জনগণের মুক্তি ও ন্যায়ের সংগ্রামের প্রতীক।

প্রগতিশীল চিন্তার আলোকবর্তিকা

কমরেড জিতেন সেনের লেখনী ছিল ধারালো ও চিন্তাশীল। তিনি সাংবাদিকতাকে দেখতেন সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে। তাঁর প্রতিটি কলামে প্রতিফলিত হতো শোষণ-বৈষম্যমুক্ত সমাজের স্বপ্ন, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর।

তাঁকে স্মরণে

Manual4 Ad Code

তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সিলেট, হবিগঞ্জ ও ঢাকায় ওয়ার্কার্স পার্টি, সাংবাদিক সংগঠন এবং বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন— “কমরেড জিতেন সেন ছিলেন এক সত্যিকারের বিপ্লবী মানুষ। তিনি কলম ও কর্ম—দুয়ের মাধ্যমেই মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের জন্য তাঁর জীবন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”

Manual3 Ad Code

উত্তরাধিকার

কমরেড জিতেন সেন আজ নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ, তাঁর কলম, তাঁর সংগ্রামী চেতনা আজও প্রেরণার উৎস হয়ে আছে সাংবাদিক সমাজ ও প্রগতিশীল রাজনীতিকদের কাছে।
বিপ্লবী জীবনসংগ্রামের এই মানুষটির স্মৃতি আজও আলো জ্বালায় সেই পথিকদের, যারা সত্য, ন্যায় ও সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ