সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ : বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা প্রয়াত আলতাফ মাহমুদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি)।

এ উপলক্ষে পরিবারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

প্রয়াত এই সাংবাদিক নেতার স্মরণে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আগামীকাল ঢাকায় নিজ বাসভবনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন পৃথকভাবে তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আলতাফ মাহমুদ বাংলাদেশের সাংবাদিক আন্দোলনের একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত মুখ ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালের ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প কিছুদিন পরই তিনি স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতায় আক্রান্ত হন। পরে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি তার দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়।অস্ত্রোপচারের পর তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আলতাফ মাহমুদ বিএফইউজের সভাপতি ও মহাসচিব ছাড়াও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত অধিকার, সাংবাদিকদের কল্যাণ এবং মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন আপসহীন ও সক্রিয়।

Manual2 Ad Code

তিনি দৈনিক খবর ও দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখেন। এছাড়া তিনি জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য ছিলেন। পেশাগত দায়িত্বের বাইরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও তিনি নানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ফিল্ম সেন্সর বোর্ড, ঢাকা ওয়াসার পরিচালনা পর্ষদসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন।

তার ছেলে, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আসিফ মাহমুদ জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও তার বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি প্রয়াত আলতাফ মাহমুদের জন্য দেশবাসী ও সাংবাদিক সমাজের কাছে দোয়া কামনা করেন।

সাংবাদিক সমাজের নেতারা মনে করেন, আলতাফ মাহমুদের অবদান ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। সততা, পেশাদারিত্ব ও সংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তিনি যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আলতাফ মাহমুদকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা —

স্মৃতির দীপশিখা : আলতাফ মাহমুদ
সৈয়দ আমিরুজ্জামান |

ঢাকার বুকে নেমে আসে নীরব জানুয়ারি,
শীতল হাওয়ায় মিশে থাকে স্মৃতির দীর্ঘ সুর।
কলমের ডগায় যে মানুষ
সত্যের আগুন জ্বালাতেন,
আজ তার নামেই জেগে ওঠে
শ্রদ্ধার মোমবাতি হাজার।

একদিন তিনি ছিলেন কণ্ঠস্বর,
নিপীড়িত সাংবাদিকের সাহসী উচ্চারণ,
দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো
এক দৃঢ়, অটল প্রাচীর।
আজ সেই কণ্ঠ নীরব,
তবু শব্দ হয়ে রয়ে গেছে
সংগ্রামের প্রতিটি পাতায়।

আলতাফ মাহমুদ—
নামটি শুধু ব্যক্তি নয়,
এ এক আন্দোলনের প্রতিশব্দ।
যে নাম উচ্চারিত হলে
ভয় পেত অন্যায়,
আর ভরসা পেত সহকর্মী।

সংবাদকক্ষের ব্যস্ত আলোয়
রাতজাগা মানুষের মতো
তিনি জেগে থেকেছেন সত্যের জন্য।
খবরের শিরোনামে নয়,
খবরের পেছনের ন্যায়ের প্রশ্নে
তিনি ছিলেন নির্ভীক প্রহরী।

বিএফইউজের পতাকা হাতে
যেদিন তিনি দাঁড়ালেন সভাপতি হয়ে,
সেদিন আশা পেয়েছিল
সারা দেশের সাংবাদিক সমাজ।
কিন্তু নিয়তি বড় নিষ্ঠুর,
দায়িত্বের ভার কাঁধে নিয়েই
ডেকে নিল অসুস্থতার অন্ধকার।

Manual2 Ad Code

হাসপাতালের নীরব করিডরে
চুপচাপ বয়ে চলল সময়,
আইসিইউর কাচের ওপারে
জমে থাকল অগণিত প্রার্থনা।
যন্ত্রের শব্দে ঢাকা পড়ে গেল
এক সংগ্রামী হৃদয়ের স্পন্দন।

চব্বিশে জানুয়ারি—
ক্যালেন্ডারের পাতায়
কালো দাগ টেনে গেল সময়।
একটি জীবন থেমে গেল,
কিন্তু থামল না তার আদর্শ,
থামল না তার রেখে যাওয়া পথ।

Manual7 Ad Code

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে
জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রাঙ্গণ,
প্রতিটি ইট আজও জানে
তার পদচিহ্নের গল্প।
সংগঠনের মিটিংয়ে,
তর্কের টেবিলে,
তিনি ছিলেন যুক্তির আলো।

দৈনিক খবর, ডেসটিনির পাতায়
তার কলম লিখেছে
শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
সেন্সর বোর্ড, ওয়াসা বোর্ড—
রাষ্ট্রের দায়িত্বেও
তিনি ছিলেন সৎ ও দৃঢ়।

আজ তার ঘরের উঠোনে
দোয়ার হাত ওঠে আকাশে,
পিতৃহীন সন্তানের চোখে
নীরব শ্রদ্ধার জল।
আসিফের কণ্ঠে শোনা যায়
এক সন্তানের গর্ব,
এক পুত্রের প্রার্থনা।

হে আলতাফ মাহমুদ,
তুমি নেই—এই কথাটাই মিথ্যে।
তুমি আছো প্রতিটি সাহসী প্রশ্নে,
প্রতিটি আপসহীন শিরোনামে।
নতুন প্রজন্ম যখন কলম ধরবে,
তখন তারা খুঁজে পাবে
তোমার রেখে যাওয়া দিশা।

সময় যাবে, বছর গড়াবে,
মোমবাতি নিভে যাবে একে একে,
কিন্তু সত্যের যে আগুন
তুমি জ্বালিয়ে গেছো,
সে আগুন নিভবে না কখনো।

এই দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে
শুধু শোক নয়,
আমরা করি অঙ্গীকার—
তোমার মতো সৎ থাকব,
তোমার মতো দৃঢ় থাকব,
সংবাদকে দেব মর্যাদা,
আর সত্যকে দেব সর্বোচ্চ আসন।

Manual8 Ad Code

শান্তিতে ঘুমাও, সংগ্রামের মানুষ,
তোমার নাম লেখা থাকবে
বাংলার সাংবাদিকতার ইতিহাসে
স্বর্ণাক্ষরে, অমলিন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ