সাংবাদিক রেজাউল করিমের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬

সাংবাদিক রেজাউল করিমের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় পত্রিকা সাপ্তাহিক তিতাস-এর সম্পাদক ও প্রকাশক, প্রবীণ সাংবাদিক রেজাউল করিমের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২ ফেব্রুয়ারি)। দিনটি উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সহকর্মী সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ার নিজ বাসভবনে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।

রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতায় সক্রিয় ছিলেন এবং স্থানীয় সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাপ্তাহিক তিতাস-এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে তিনি সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকমহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে মাজহারুল করিম অভি স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক এক বিবৃতিতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজ-এর সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। তিনি বলেন, সাংবাদিক রেজাউল করিম ছিলেন নীতিনিষ্ঠ, সাহসী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর মৃত্যু স্থানীয় সাংবাদিকতা জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

আজকের দিনে মরহুম রেজাউল করিমের সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সাংবাদিক রেজাউল করিমকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা —

Manual4 Ad Code

তিতাসের তীরে এক আলোকমানুষ

— সৈয়দ আমিরুজ্জামান

আজ তিতাস কাঁদে নীরব জলে, থমকে আছে ঢেউ,
কলম পড়ে আছে নিঃশব্দে, স্তব্ধ সম্পাদক বেউ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আকাশজুড়ে ভারী শোকের ছায়া,
রেজাউল করিম—নামটি আজও বাতাসে ঝরায় মায়া।

আজ চার বছর, তবু মনে হয় এই তো সেদিনই,
সংবাদঘরে আলো জ্বেলে ডাকলেন—“খবর আনিনি?”
সত্যের পক্ষে অবিচল যে মানুষটি দাঁড়াতো,
ভয়ের চোখে চোখ রেখে যে লিখতো, বলতো, গাঁথতো।

সাপ্তাহিক তিতাস ছিল শুধু কাগজ নয় কোনো,
ছিলো জনতার কণ্ঠস্বর, ছিলো প্রতিবাদের বোনো।
সম্পাদক হয়ে নয়, তিনি ছিলেন দায়বদ্ধ সৈনিক,
শব্দকে বানালেন অস্ত্র, সত্যকে করলেন দৈনিক।

Manual3 Ad Code

কাজীপাড়ার ছোট ঘরে, বই আর খবরের ভিড়,
রাত জেগে যে মানুষটি লিখেছেন মানুষের নীড়।
ক্ষমতার রক্তচক্ষুতে নত না হওয়া চোখ,
নীতির কাছে মাথা নত—এই ছিল তাঁর শোক।

সন্ধ্যা নামে ২ ফেব্রুয়ারি, নেমে আসে স্তব্ধতা,
হঠাৎ থেমে যায় কলমের সেই নির্ভীক চলতা।
হাসপাতালের নিস্তব্ধতায় ঘোষণা আসে ধীরে—
এক হৃদয় থেমেছে আজ, তবু জেগে আছে ভিড়ে।

Manual4 Ad Code

হৃদ্‌যন্ত্র থেমে গেলেও থামে কি দায়িত্ববোধ?
থামে কি সাহসী লেখা, থামে কি সত্যের শোধ?
মৃত্যু পারে না মুছিয়ে দিতে আদর্শের দাগ,
রেজাউল করিম মানে আজও সততার এক ভাগ।

পঞ্চাশ আট বছরের জীবনে কত যুদ্ধ জেতা,
মাঠের খবর, ঘামের গন্ধ, শ্রমিকের কথা কেতা।
রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি—সবখানে তাঁর পদচিহ্ন,
কলমে ছিল মানুষের মুখ, চোখে ছিল ভবিষ্যৎ চিহ্ন।

সহকর্মীরা জানে ভালো, কী কঠিন ছিল পথ,
তবু তিনি ছাড়েননি সত্য, করেননি আপস রথ।
ভয় দেখিয়ে থামানো যায়—এ ধারণা ছিল ভুল,
কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, নীতিই শেষ মূল।

Manual6 Ad Code

আজ তাঁর বড় ছেলে অভি, বাবার পথেই চলে,
কলম তুলে নিচ্ছে হাতে, সত্যের খোঁজে বলে।
এইভাবেই বাঁচে মানুষ, প্রজন্ম পেরিয়ে যায়,
রক্তের সাথে আদর্শও উত্তরাধিকার পায়।

স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যা—এক ভরা সংসার,
তবু সাংবাদিকতার দায়ে করেছেন নিজেকে নিঃস্বাকার।
পরিবার বুঝেছে নীরবে এই ত্যাগের মানে,
কারণ সত্যের পথে চলা সহজ নয় জানে।

আজ স্মরণসভা, ফুলের তোড়া, নীরবতার গান,
চোখের কোণে জল জমে ওঠে, ভারী হয় অভিমান।
কেউ বলে—“আপনি ছিলেন সাহসের প্রতীক”,
কেউ বলে—“আপনি শেখালেন কাকে বলে নীতিক।”

রেজাউল করিম, আপনি যাননি মাটির নিচে শুধু,
আপনি আছেন প্রতিটি খবরে, প্রতিটি শুদ্ধ বুদ্ধু।
যেখানে সত্য চাপা পড়ে, সেখানে আপনার ছায়া,
ফিসফিস করে বলে যায়—“ভয় নয়, লেখো ভাইয়া।”

তিতাস বয়ে যায় আজও, বয়ে যাবে কাল,
আপনার নাম থাকবে জড়িয়ে এই জনপদের পাল।
সাংবাদিকতা যতদিন সত্যের পথে হাঁটে,
রেজাউল করিম ততদিন অমর হয়ে থাকে।

আজ চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে এই প্রার্থনা করি—
আপনার আত্মা পাক শান্তি, পাক জান্নাতের ঝরঝরি।
আর আমরা যারা রইলাম কলম হাতে নিয়ে,
আপনার দেখানো পথে চলি—সত্যকে হৃদয়ে নিয়ে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ