জামায়াতের আমীরের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ: ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থীতা বাতিলের দাবি

প্রকাশিত: ৬:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬

জামায়াতের আমীরের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ: ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থীতা বাতিলের দাবি

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : কর্মজীবী নারীদেরকে বেশ্যার সাথে তুলনা করে দেওয়া জামায়াতের আমীরের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থীতা বাতিলের দাবি করেছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।

Manual3 Ad Code

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আজ সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি আল জাজিরার সাথে সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমীর অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘সৃষ্টিগত কারণেই নারীরা তাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার অনুপযুক্ত’। ৩১ জানুয়ারি জামায়াত আমীরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটা পোস্ট করা হয় সেখানেও বলা হয়, ‘… …. আমরা বিশ্বাস করি যে, আধুনিকতার নামে যখন নারীদের ঘর থেকে বের করা হয় তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়। এটি পতিতাবৃত্তির আরেকটি রূপ ছাড়া কিচুই নয়।’ যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার দাবি করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

গতকাল ১ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের আমীরের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বক্তব্য দেওয়া হয়, সেখানে তিনি বলেন, ‘… আমাদের ইশতেহার প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট। … আমরা রাজনীতি এবং স্থানীয় সরকারে নারীর নেতৃত্ব; গ্রামীন নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শক্তিশালী আইনী সুরক্ষা এবং সামাজিক সম্মানকে সমর্থন করি।’

যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, আল জাজিরার সাথে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস একটি আরেকটির সাথে সাংঘর্ষিক এবং পরস্পর বিপরীত। রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব যদি তারা সমর্থন করেন তাহলে দলের শীর্ষ পদে বা প্রধান কেন হতে পারবে না। এ প্রশ্নের কী কোন উত্তর আছে? আসলে ইশতেহারে যা বলা আছে তা তারা বিশ্বাস করে না। কারণ জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা আবুল আলা মওদুদী স্পষ্ট করে বলেছেন-নারী রাজনীতি, রাষ্ট্রশাসন ও সামরিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে না। ফলে মওদুদীর অনুসারী জামায়াত কখনোই নারী নেতৃত্ব মানে না।

Manual5 Ad Code

আজ জামায়াতের নারী শাখার নেত্রীরাও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বলেছেন, ‘জামায়াত একটা ইসলামী দল, ইসলামে নারী শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে পারবেনা এমন বিধান রয়েছে। এটা মেনে নিয়েই তারা জামায়াত করেন।’

শুধু তাই নয়, জামায়াতের বিভিন্ন নেতারাও নারীদের হেয় করে অবমাননা করে বক্তব্য বিবৃতি হর হামেসাই দেয়। সম্প্রতি বরগুনা জামায়াতের প্রার্থীও নারী বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে নারীদেরকে বেশ্যা বলে অভিহিত করেছেন। এ থেকে বুঝা যায় জামায়াত আসলে নারীদেরকে কী নজরে দেখে। ফলে আইডি হ্যাক নয় জামায়াত আমীরসহ জামায়াত নেতাদের মাথা বহু আগেই মওদুদীর ইসলাম চিন্তা হ্যাক করে রেখেছে। মুখে যতই সুন্দর কথা বলুক, মাঝে মাঝে সেই সত্যটা মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন স্বাক্ষরিত ও প্রেরিত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, যে নারীদের সম্পর্কে এমন অবমাননাকর অশ্লীল বক্তব্য প্রদান করেন তাদের কাছেই লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে আবার ভোট চান কীভাবে? এ প্রশ্ন আজ দেশবাসীর।

বিৃবতিতে নেতৃবৃন্দ জামায়াত আমীরের নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার প্রার্থীতা বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে নারীর প্রতি অবমাননকার বক্তব্য প্রদানকারী স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতকে নারী সমাজসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ’২৪-এর গণ আকাক্সক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল প্রগতিমনা সকলকে ভোট না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

Manual2 Ad Code

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদ-এর সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ