কমরেড মেননের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ১৮ মে

প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২৬

কমরেড মেননের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ১৮ মে

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৪ মে ২০২৬ : বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনীতির কিংবদন্তি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাম্রাজ্যবাদ-মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে বাংলাদেশ যুব মৈত্রী ও বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী।

আগামী ১৮ মে ২০২৬, সোমবার বিকাল ৪টায় ঢাকার তোপখানা রোডে অবস্থিত বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজক সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতি বছর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সংগ্রামী অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে জননেতা রাশেদ খান মেননের জন্মবার্ষিকী পালন করা হলেও এবারও তা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক বিশেষ রাজনৈতিক বাস্তবতায়। গত দুই বছর ধরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়ের করা ‘ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলায়’ তিনি কারাবন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠন দুটি।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা, গণমানুষের নেতা এবং সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্বকে দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে রাখা দেশের গণতান্ত্রিক চেতনার জন্য অশনিসংকেত।

বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস এবং বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, রাশেদ খান মেননের অনুপস্থিতি সংগঠনের নেতাকর্মী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীদের ব্যথিত করলেও তাঁর আদর্শ, সংগ্রাম এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এখনো রাজনৈতিক কর্মীদের পথ দেখাচ্ছে।

তাঁরা বলেন, দেশের মেহনতী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরোধিতা এবং অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রশ্নে রাশেদ খান মেননের রাজনৈতিক ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজ, ছাত্রসমাজ এবং শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

“মেহনতী জনতার সাথে একত্ম হও ও যুব অধিকারে ঐক্যবদ্ধ হও।” — এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এবারের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সফল করার আহবান জানানো হয়েছে।

আয়োজকরা মনে করেন, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, বেকারত্ব, গণতান্ত্রিক অধিকার সংকোচন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শ্রমিক-ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

আলোচনা সভায় রাশেদ খান মেননের রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর অবদান এবং বাংলাদেশের বাম-প্রগতিশীল রাজনীতিতে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গণসংগীত, কবিতা আবৃত্তি এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।

Manual1 Ad Code

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের বাম রাজনীতির অন্যতম ধারক ও বাহক। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার থেকেছেন।

Manual8 Ad Code

আয়োজক সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিক জন্মদিন উদযাপন নয়, বরং রাশেদ খান মেননের রাজনৈতিক দর্শন, গণমুখী রাজনীতি এবং সংগ্রামী চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এবারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

তাঁরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশে বিরুদ্ধ মতের কণ্ঠরোধ, রাজনৈতিক হয়রানি এবং গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তাঁরা আরও বলেন, রাশেদ খান মেননের মুক্তি শুধু একটি রাজনৈতিক দাবি নয়; এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রশ্নের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে আয়োজকরা বলেন, দেশের জনগণ তাঁদের প্রিয় নেতাকে আবারও জনতার মাঝেই দেখতে চায়।

বাংলাদেশ যুব মৈত্রী ও বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তি, গণতান্ত্রিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী, ছাত্র-যুব সমাজ এবং সর্বস্তরের জনগণকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

অনুষ্ঠানসূচি

Manual6 Ad Code

আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

তারিখ: ১৮ মে ২০২৬, সোমবার

Manual1 Ad Code

সময়: বিকাল ৪টা

স্থান: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণ, ৩১/এফ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, “জনতার মেননকে জনতার মাঝে চাই”— এই প্রত্যয় থেকেই এবারের জন্মবার্ষিকী পালন করা হবে সংগ্রামী অঙ্গীকার ও গণমানুষের অধিকারের প্রশ্নকে সামনে রেখে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ