২০ শতাংশ বোনাসের দাবিতে দার্জিলিংয়ে চা শ্রমিকদের ধর্মঘট

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৪

২০ শতাংশ বোনাসের দাবিতে দার্জিলিংয়ে চা শ্রমিকদের ধর্মঘট

Manual1 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | দার্জিলিং (পশ্চিমবঙ্গ), ১০ অক্টোবর ২০২৪ : গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ থেকে ২০ শতাংশ বোনাসের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং পাহাড় এবং ডুয়ার্সের চা শ্রমিকেরা। কর্মবিরতি শুরু হয়েছিল প্রায় প্রতিটি চা বাগানেই।

Manual5 Ad Code

মালিকপক্ষ ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। শেষ পর্যন্ত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সরকারের পক্ষ থেকে ১৬ শতাংশ বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

Manual8 Ad Code

এরপর ডুয়ার্সের চা বাগানগুলোর কর্মবিরতি উঠলেও পাহাড়ের প্রায় ১৫টি চা বাগানে এখনো ধর্মঘট চলছে। তাদের দাবি, ২০ শতাংশ বোনাস না পাওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।

দার্জিলিং চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত গৌতম মণ্ডল জানিয়েছেন, “পাহাড়ের বেশ কয়েকটি বাগানে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকপক্ষের নেতৃবৃন্দের আলাদা করে বৈঠক হয়েছে। সেখানে কোনো কোনো বাগান সরকারের বেঁধে দেওয়া ১৬ শতাংশ বোনাসের বেশিই শ্রমিকদের দেওয়ার কথা বলেছেন। যে কারণে আপস মীমাংসার মাধ্যমে ধর্মঘট উঠেছে। কিন্তু বেশ কিছু বাগানে এখনো জট কাটেনি। আলোচনা চলছে।”

পাহাড়ে চা বাগানের আন্দোলনরত ট্টেড ইউনিয়নগুলোর অন্যতম নেতা বিএম রাই জানিয়েছেন, “২০ শতাংশ বোনাস না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকেরা কাজে ফিরবেন না। এটা তাদের অধিকার।”

Manual1 Ad Code

বস্তুত, উৎসবের মৌসুমে বোনাস দেওয়ার রীতি আছে চা বাগানগুলোতে। এবছর সেই বোনাস নিয়েই মালিকপক্ষের সঙ্গে বিতর্ক শুরু হয় শ্রমিকদের। তার জেরেই শুরু হয় আন্দোলন।

Manual4 Ad Code

দার্জিলিং এবং ডুয়ার্স অঞ্চলের চা বাগান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা চলছে। মাঝে বহু চা বাগান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত দেড় বছরে বেশ কিছু চা বাগান নতুন করে খুলেছে। কিন্তু শ্রমিকদের অভিযোগ, হাত বদল হয়ে চা বাগান খুললেও তাদের পুরোনো বকেয়া এখনো পুরোপুরি মেটানো হয়নি।

বহু শ্রমিক তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং গ্র্যাচুইটির টাকা পাননি। অভিযোগ রয়েচে, মৃত্যুর পরেও তাদের ব্যাংকে সেই টাকা ঢোকেনি। এনিয়ে একাধিকবার আন্দোলনে নেমেছেন চা শ্রমিকেরা।

শুধু তা-ই নয়, শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি নিয়েও অসন্তোষ আছে। বছরদুয়েক আগে সরকার শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির কথা বললেও তা যথেষ্ট নয় বলেই শ্রমিকদের দাবি।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ