জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিন: সুলতানা কামাল

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিন: সুলতানা কামাল

Manual7 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ : জাতিসংঘ সাধারণ সম্মেলন ও ইউএনএসজি ক্লাইমেট অ্যাম্বিশন সামিট ২০২৩ সামনে রেখে আগমীকাল ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বনেতাদের কাছে বিভিন্ন দাবিসহ জীবাশ্ম জ্বালানীমুক্ত জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে জলবায়ু কর্মীরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ হেডকোয়ার্টার্স অভিমুখে যাত্রা করবে। এ লক্ষ্যে ১৫-১৭ সেপ্টেম্বর বহু সংগঠন পৃথিবীব্যাপি “Global Day of Action to End Fossil Fuels for Climate Justice” শিরোনামে নানা কর্মসূচী আয়োজন করছে। অপরাপর অন্যান্য সংগঠনের মত এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি) এবং এশিয়ান এনার্জি নেটওয়ার্কও সমগ্র এশিয়া মহাদেশের দেশসমূহে বিভিন্ন কর্মসূচীর সমন্বয় করছে।

বাংলাদেশে ওয়াটাকিপার্স বাংলাদেশ, ইকুইটি বিডি, ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট, ব্রতী, গ্লোবাল ল’থিংকার্স সোসাইটি, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ, স্বদেশ মৃত্তিকা মানব উন্নয়ন সংস্থা এবং বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ-এর যৌথ উদ্যোগে গত শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর, আগারগাঁও, পরিবেশ অধিদপ্তরের সামনে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে মানববন্ধন, মূকাভিনয় এবং সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে সারা দেশের সকল আয়োজনের উদ্ভোধন ঘোষণা করেন সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল এবং ধারণা বক্তব্য তুলে ধরেন ব্রতী’র নির্বাহি পরিচালক শারমিন মুরশিদ।
এছাড়া কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক এম মুস্তফা কামাল আকন্দ, নিরাপদ ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি মো: আমিনুল ইসলাম তুববুস, ইকুইটি বিডি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক, গ্লোবাল ল’ থিংকারস সোসাইটির প্রেসিডেন্ট রাওমান স্মিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচীর উদ্বোধক তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরণের অনবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প থেকে পর্যায়ক্রমে বের হয়ে আসার বিকল্প নেই। ধনীদেশগুলোর অসহযোগিতার ফলে এ ধরণের পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম থেকে বের হয়ে আসতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা যাচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এ সকল কর্মসূচীর মাধ্যমে আমরা নীতি নির্ধারকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছি। একইসাথে আসন্ন জাতীসংঘ সাধারণ সম্মেলন ও ইউএনএসজি ক্লাইমেট অ্যাম্বিশন সামিটে অংশ নিতে যাওয়া বিশ্বনেতাদের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জাানাচ্ছি।

Manual1 Ad Code

ধারণা বক্তব্য তুলে ধরার সময় ব্রতী’র নির্বাহি পরিচালক শারমিন মুরশিদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা আজ সারাদেশ ব্যাপী জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছি। এ আয়োজন শুধুমাত্র সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন কর্মসূচীর ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষদের অংশগ্রহণ আমাদের দাবির বিষয়গুলোকে আরো শক্তিশালী করবে। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে আমরা বিশ্বনেতাদের আশু পদক্ষেপ গ্রহণে আহ্বান জানাচ্ছি।

Manual4 Ad Code

Manual3 Ad Code

উপস্থিত অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য জনাব এম এস সিদ্দিকী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যে দেশগুলো দায়ী তাদেরকে এ বিপর্যয় মোকাবেলায় যথাযথ দায়িত্ব নিতে হবে এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বৈশ্বিক বিভিন্ন সম্মেলনে দায়সারা পরিকল্পনা গ্রহণ ও কার্যকরী ভূমিকা পালনে গড়িমসি করে বিশ্বকে আরো বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ এজাজ আমাদের এই কর্মসূচীতে সংহতি জানান ও তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনার মধ্যে হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুত উৎপাদনের সিদ্ধান্ত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে ধরণের প্রযুক্তিগত, কারিগরি ও অন্যান্য সক্ষমতা প্রয়োজন আমরা এখনো অর্জন করতে পারিনি। তাই জ্বালানি নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতার বিষয়টি সবসময় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

একইদিনে ওয়াটাকিপার্স বাংলাদেশ, ব্রতী ও স্থানীয় অনেক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে সারাদেশের অন্তত ২৬ টি স্থানে জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা তুলে ধরে মানববন্ধন, নৌবন্ধন, সাইকেল র‍্যালি, রিক্সার‍্যালি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রতীকী পরিষ্কার অভিযান, সমাবেশ ও অন্যান্য কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকায় আয়োজিত কর্মসূচীতে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন পরিবেশ বিষয়ক মূকাভিনয় প্রদর্শন করে এবং বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের শতাধিক সাইকেলিস্টের একটি র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা ছাড়াও অন্যান্য স্থানের মধ্যে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সিলেট, পিরোজপুর, গাজীপুর, পঞ্চগড়, জৈন্তাপুর, বিশ্বনাথ, বগুড়া, মংলা, খুলনা, বরগুনা, কুয়াকাটা, তালতলী, পাইকগাছা, সাতক্ষিরা, মহেশখালি, পাথরঘাটা, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও বরিশালে কর্মসূচীটি একযোগে পালিত হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ