জেলেদের মুক্তির লক্ষ্যে হারুন রুশো’র পথনাটক ‘‘মাছুয়া’’

প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

জেলেদের মুক্তির লক্ষ্যে হারুন রুশো’র পথনাটক ‘‘মাছুয়া’’

Manual6 Ad Code

|| এসবি সোহেল || ঢাকা, ০৬ জুলাই ২০২০: বর্তমান সময়ের ছোটপর্দার তরুণ, মেধাবী, জনপ্রিয় পরিচালক হারুন রুশো। করোনা পরিস্থিতিতে টানা ৭২ দিন শ্যুটিং বন্ধ থাকার পর ১ জুন থেকে টিভি নাটকের শুটিং শুরু হয়েছে। এরমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজে ফিরেছেন এই নির্মাতা।

গত বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশী ২৬জন জেলে বৈধ ভিসায় ভারতের আসামে গিয়েছিল মাছ ধরতে। করোনা ভাইরাসের পার্দুভাবে দেশে ফেরার আগে ভারত সরকার ঘোষিত লক-ডাউনে আটকে পড়ায় শেষ হয়ে যায় তাদের ভিসার মেয়াদ। বর্তমানে ফরেন এফেয়ার্স আইনে সবাই এখন আসামের জেলখানায় আটক রয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে বকুল মিয়া (৫৭) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত বুধবার (১ জুলাই) সকালে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের দেশে ফেরার ভাগ্য। তাই আটককৃত জেলেদের মুক্তির ব্যাপারে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সামনে নির্মাতা হারুন রুশো’র রচনা ও নির্দেশনায় প্রদর্শিত হবে পথ নাটক “মাছুয়া”

Manual1 Ad Code

পথনাটক প্রসঙ্গে হারুন রুশো বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মাত্র এক-দুই দিনের রিহার্সালের মাধ্যমেই পথনাটকটি প্রদর্শন করা হবে। শিল্পমান কিংবা নাট্যরসের উৎকর্ষতা এখানে বিবেচ্য নয় বরং জেলেদের প্রতি অমানবিক আচরণের প্রতিবাদই হবে পথনাটকের একমাত্র উদ্দেশ্য। আগ্রহী নাট্যবন্ধুদের সদয় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।’

Manual8 Ad Code

হারুন রশো’র এই মানবিক কাজটিকে সবাই সাধুবাদ জানিয়েছে। এবং টিভি নাটকের অনেক জনপ্রিয় মুখ পথনাটক’টিতে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ জানিয়েছেন।

Manual7 Ad Code

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ২৬ বাংলাদেশি ভারতে গমন করেন। বৈধ পাসপোর্ট ও ভ্রমণ ভিসা থাকলেও ভারতে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউন চলার মধ্যে গত ২ মে ওই ২৬ জন পুরুষ বাংলাদেশি দুটি মিনিবাসে করে আসামের জোরহাট জেলা থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা দেন।

পশ্চিমবঙ্গের চেংরাবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা ছিল তাদের। ভারতে জেলে ও খামার কর্মী হিসেবে কাজ করা এসব বাংলাদেশিকে পরদিন (৩ মে) সকালে বাহালপুর এলাকা থেকে আটক করে আসামের ধুবড়ি জেলা পুলিশ। করোনা পরীক্ষার পর তাদের পাঠানো হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে।

গত ৫ মে ওই ২৬ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে জালিয়াতি এবং ফরেনার্স (সংশোধিত) অ্যাক্ট, ২০০৪ এবং পাসপোর্ট অ্যাক্ট, ১৯৬৭’র ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাসপোর্টধারী এসব বাংলাদেশি টি-ওয়ান ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করে।

এই ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি না থাকলেও আসাম পুলিশের অভিযোগ, এই বাংলাদেশিরা রাজ্যের জোরহাট, গোলাঘাট এবং শিবসাগর এলাকায় কর্মসংস্থান কার্যক্রমে যুক্ত থেকে ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তাদের মুক্তির দাবিতে কুড়িগ্রামে একাধিকবার মানববন্ধন করেন স্বজনরা।

Manual3 Ad Code