ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মোহাম্মদ ইলিয়াসের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২৫

ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মোহাম্মদ ইলিয়াসের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২১ নভেম্বর ২০২৫ : আজ ভাষা আন্দোলনের সংগঠক, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর প্রাদেশিক কমিটির সদস্য, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (ইপসু)-র প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা মোহাম্মদ ইলিয়াসের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনীতির ইতিহাসে অনন্য এই ব্যক্তিত্ব ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে সাম্রাজ্যবাদ, স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ছাত্র রাজনীতির সংগঠক হিসেবে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠা ও বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মোহাম্মদ ইলিয়াস ১৯২৯ সালের ১ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুশালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৪৮ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তিনি শোষণবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৬৯ সালে তিনি প্রথম এমএলএ নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পরও তিনি একাধিকবার মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Manual4 Ad Code

শ্রীমঙ্গলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর মোহাম্মদ ইলিয়াসের নেতৃত্বে এলাকায় সংগঠিত হয় প্রবল রাজনৈতিক চর্চা ও ছাত্র আন্দোলন। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এ নেতা আওয়ামী লীগের মৌলভীবাজার জেলার সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করেন।

Manual2 Ad Code

মৃত্যুকালে তিনি ৬ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রেখে যান।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবে। দলটির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “শোষণমূলক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তনে তিনি যে রাজনীতি শুরু করেছিলেন, সেই ধারাকে অনুসরণ করাই আমাদের সামনে একমাত্র পথ।”

ত্যাগ ও প্রগতির প্রতীক এই নেতা শ্রীমঙ্গলের শ্যামল মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। তার আদর্শ, মানবিকতা ও সংগ্রামী চেতনা আজও এলাকার মানুষের মুখে মুখে বেঁচে আছে।

Manual3 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ