আজ স্যার ফজলে হাসান আবেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০২৫

আজ স্যার ফজলে হাসান আবেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ : বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন, দারিদ্র্য বিমোচন ও মানব উন্নয়নের অগ্রদূত স্যার ফজলে হাসান আবেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিনটি উপলক্ষে দেশ-বিদেশে তাঁর অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।

স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর রাত ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত অ্যাপোলো হাসপাতালে (বর্তমান এভারকেয়ার হাসপাতাল) ইন্তেকাল করেন। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলে এবং তিন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন।

জন্ম, শিক্ষা ও কর্মজীবনের সূচনা

Manual5 Ad Code

স্যার ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল তৎকালীন সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমার বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লন্ডনে অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি করপোরেট চাকরিতে যুক্ত থাকলেও দেশের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা ও মানবকল্যাণের আকাঙ্ক্ষা তাঁকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চাকরি ছেড়ে লন্ডনে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ ও ‘হেলপ বাংলাদেশ’ নামে দুটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তহবিল সংগ্রহ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা জোগাড়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন দর্শন

Manual4 Ad Code

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে স্যার ফজলে হাসান আবেদ দেশে ফিরে আসেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও ভারত-প্রত্যাগত শরণার্থীদের দুর্দশা তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। শরণার্থীদের জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে তিনি ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন এবং সুনামগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত শাল্লা এলাকায় আর্থসামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমের সূচনা করেন।

পরবর্তীতে ব্র্যাক শুধু একটি ত্রাণ সংস্থায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্রঋণ, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বহুমুখী ক্ষেত্রে কাজ করে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়। বর্তমানে এশিয়া ও আফ্রিকার ১১টি দেশে ব্র্যাকের কার্যক্রম বিস্তৃত।
২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর জেনেভাভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থা ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’ ব্র্যাককে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এনজিও হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মাননা

মানব উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদানের জন্য স্যার ফজলে হাসান আবেদ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
ইদান প্রাইজ, লেগো প্রাইজ, লুডাটো সি অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ, ট্রাস্ট উইমেন হিরো অ্যাওয়ার্ড, স্প্যানিশ অর্ডার অব সিভিল মেরিট, লিও টলস্টয় ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড মেডাল, ওয়াইজ প্রাইজ ফর এডুকেশন, ডেভিড রকফেলার ব্রিজিং লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড, ক্লিনটন গ্লোবাল সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড, ইউএনডিপি মাহবুবুল হক অ্যাওয়ার্ড, ওলফ পামে প্রাইজ এবং র‌্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফর কমিউনিটি লিডারশিপ।

Manual2 Ad Code

২০১০ সালে তিনি ব্রিটেনের রানী কর্তৃক নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত হন। একই বছর জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়ন সংক্রান্ত পরামর্শদাতা দলের সদস্য মনোনীত হন। ২০১৪ ও ২০১৭ সালে ফরচুন ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী ৫০ ব্যক্তিত্বের একজন হিসেবে উল্লেখ করে। সর্বশেষ তিনি নেদারল্যান্ডসের রাজার কাছ থেকেও নাইটহুড সম্মান লাভ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন

ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “স্যার ফজলে হাসান আবেদ শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের মানব উন্নয়ন আন্দোলনের এক অনন্য পথিকৃৎ।”

এছাড়াও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি ও বাংলা এফএম-এর নিজস্ব প্রতিনিধি দেওয়ান মাসুকুর রহমান। তিনি বলেন, “স্যার ফজলে হাসান আবেদের জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।”

চিরস্মরণীয় এক মানবিক নেতৃত্ব

স্যার ফজলে হাসান আবেদ আজ নেই, তবে তাঁর সৃষ্টি ব্র্যাক এবং তাঁর উন্নয়ন দর্শন কোটি মানুষের জীবনে আলো জ্বালিয়ে চলেছে। দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ