মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুস সামাদ আজাদের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুস সামাদ আজাদের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ : মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষা সৈনিক, জাতীয় নেতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুস সামাদ আজাদের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী আজ (১৫ জানুয়ারি)।

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে তাঁর পরিবার, আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন।

১৯২২ সালের ১৫ জানুয়ারি তৎকালীন সিলেট জেলার (বর্তমান সুনামগঞ্জ) জগন্নাথপুর থানার ভূরাখালি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুস সামাদ আজাদ। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা, সংগ্রামী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন। ছাত্রজীবনেই তিনি ব্রিটিশবিরোধী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।

নানা কর্মসূচির আয়োজন

দিবসটি উপলক্ষে সিলেট, সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কোরআন খতম, ঢাকার বনানী কবরস্থানে সকাল ১১টায় মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জেয়ারত, দোয়া মাহফিল, কেক কাটা, আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান।
আব্দুস সামাদ আজাদের পুত্র, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন এসব কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমার পিতার জন্মবার্ষিকীতে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত সকল শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া প্রার্থনা করছি।”

সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন

আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯৪০ সালে মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের আঞ্চলিক শাখার সভাপতি হিসেবে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে এমএলএ নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে শ্রম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এ সময় সর্বদলীয় রাজনৈতিক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)-এর দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Manual6 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এমএনএ নির্বাচিত হন আব্দুস সামাদ আজাদ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রধান সংগঠকদের একজন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক স্বীকৃতি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

Manual4 Ad Code

পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকা

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা এবং ১৯৯৬ সালের ‘জনতার মঞ্চ’-এর অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি।

১৯৯১ সালে তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি আবারও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আসন থেকে মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

Manual5 Ad Code

অভিভাবকতুল্য নেতৃত্ব

Manual6 Ad Code

দল-মত নির্বিশেষে সকলের কাছে তিনি ছিলেন একজন অভিভাবকতুল্য নেতা। জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা, সহনশীলতা ও প্রজ্ঞা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রয়াণ ও শ্রদ্ধা

২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে জাতি হারায় একজন প্রজ্ঞাবান, দেশপ্রেমিক ও পরীক্ষিত রাষ্ট্রনায়ককে।

আব্দুস সামাদ আজাদের ১০৪তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। এক বার্তায় তিনি বলেন, “আব্দুস সামাদ আজাদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এক অনন্য ধারক। তাঁর রাজনৈতিক জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য আদর্শ ও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

জাতীয় ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এই নেতার জন্মবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসী গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ